প্রতিবেদনটি পড়ার পর কোল্ড ড্রিংকস খাবার আগে ১০ বার ভাববেন

কোল্ড ড্রিংক বা ঠান্ডা পায় আমাদের অত্যন্ত পছন্দের৷ গরমের দিনে আরাম পেতে কিংবা অতিরিক্ত তেল ঝাল মশলাদার খাবার খাওয়ার পর শরীরের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে কোল্ড ড্রিংক খেয়ে থাকি৷ নিমেষে শান্তি আসে৷ আবার কখনও তৃষ্ণা মেটানোর জন্যও ঠান্ডা পানীয় খেয়ে থাকি৷ এছাড়াও কোনো পার্টিতে বা অনুষ্ঠান বাড়িতেও কোল্ড ড্রিংক খাওয়াটা একটা ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে৷

কোল্ড ড্রিংক আমাদের শরীরে ক্ষতিকারক জেনেও আমরা কোল্ড ড্রিংকের প্রতি আকৃষ্ট হই৷ আর ধীরে ধীরে এর প্রভাবে শরীরে বাসা বাঁধে নানরকম দুরারোগ্য ব্যাধি৷ কোল্ড ড্রিংকে থাকা কার্বোনেটেড ওয়াটার, ফসফরিক অ্যাসিড, মিস্টি, অতিরিক্ত রং কোনোটাই আমাদের শরীরের জন্য উপকারী নয়৷

কোল্ড ড্রিংক খাওয়ার পর প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে সেটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে প্রতিক্রিয়া শুরু করে দেয়৷ বিশেষ করে কোল্ড ড্রিংকের ফসফরিক অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক৷ এটি আমাদের দাঁতের এনামেল পাতলা হতে শুরু করে৷ এবং তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যায়৷ পাশাপাশি কোল্ড ড্রিংকে থাকা মিস্টি দ্রব্য চিনির মতই কাজ করে৷

প্রায় তিনশো গ্রাম কোল্ড ড্রিংকে ত্রিশ গ্রাম চিনি থাকে৷ সেই চিনি আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়৷ এবং গ্লুকোজের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়৷ ফলে আমাদের সারাদিনের প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ কোল্ড ড্রিংক থেকে পাওয়া যায় এবং তা একেবারে শরীরে যাওয়া প্রচন্ড ক্ষতিকারক৷

ঠান্ডা পানীয়ের ক্ষতিকর প্রভাবঃ-

ফ্যাট জমাতে সাহায্য করে- ঠান্ডা পানীয় খাবার পর আমাদের শরীরে  সুগারের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে লিভার একসঙ্গে অত পরিমান সুগার নিতে পারে না এবং তার সঠিক কার্য পরিচালনা করতে পারে না৷ এরফলে সেই সুগার ফ্যাটে পরিনত হয় এবং আমাদের শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে৷

 চোখের মনি বড় হতে থাকে- কোল্ড ড্রিংকে ক্যাফেইন থাকে৷ পরিমানটা অত্যন্ত বেশি৷ তাই অতিরিক্ত পরিমানে বা নিয়মিত কোল্ড ড্রিংক খেলে চোখের মনির আকার বেড়ে যেতে থাকে৷ পাশাপাশি আমাদের ক্লান্তি দূর হয়ে সতেজ অনুভব করি৷ কিন্তু সেটি শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে ডায়াবেটিসের জন্ম দেয়।

ডোপামিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়- কোল্ড ড্রিংক খাওয়ার পর শরীরে ডোপামিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং আমরা বারে বারে সেই কোল্ড ড্রিং খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করি৷

এছাড়াও কোল্ড ড্রিংকসে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও জিংকের মাত্রা কমিয়ে দেয় এর ফলে আমাদের শরীরে হাড়ের সমস্যা হতে পারে৷ এমনকি ওই সমস্ত প্রয়োজনীয় উপাদান ক্ষুদ্রান্তে পাঠানো শুরু করে৷ ফলে একসময় শরীর থেকে সমস্ত জল বাইরে বেরিয়ে যায়৷ এমনকি কোল্ড ড্রিংকের অতিরিক্ত কৃত্রিম রং আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মত মারনাত্মক ব্যাধির জন্ম দেয়৷

হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে৷ এর ফলে আমরা নিরবে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ি৷ তাই কোল্ড ড্রিংক খাওয়া শরীরের পক্ষে যতটা ভালো মনে করা হয় ঠিক ততটাই ক্ষতিকারক৷

 

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *