পুদিনা পাতার চমৎকার ভেষজ গুণ।

ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করবে পুদিনাপাতা। ইংরেজিতে যার নাম মিন্ট। বোরহানি ও সালাদের উপকরণ হিসেবে পরিচিত এই পুদিনাপাতায় রয়েছে দেহের বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘এ’। পুদিনাপাতা ত্বকের সুস্থতা রক্ষায় কাজ করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায় আর চুলকে রাখে প্রাণবন্ত।

ত্বক রক্ষাকারী পুদিনাপাতার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গরমে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করে। গরমের ঘাম জমে বুকের ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করে।

হজমে সহায়ক ছোট-বড় প্রায় সবারই বদহজমের সমস্যা দেখা যায়। পুদিনাপাতা পেটের অভ্যন্তরীণ উত্তাপ কমিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে। এছাড়া কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে পুদিনাপাতা।

মুখরোচক অতিরিক্ত জ্বর, বড় কোনো অপারেশন কিংবা বমি-ডায়রিয়ার পর মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পুদিনাপাতা মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। বাটা পুদিনাপাতার চাটনি কিংবা কুচিকুচি করে কাটা পুদিনপাতাকে কোন খাবারে কখন মুখরোচক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা একজন পাকা রাঁধুনি ভালোই জানেন।

অ্যান্টিবায়োটিক পুদিনাপাতা দেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবগুলো ধ্বংস করে, যা অনেকটা প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকের মতো। আর তাই সর্দি, হাঁচি, কাশি দূর করতেও এই পাতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুদিনাপাতা রান্নার চেয়ে কাঁচা খাওয়াই ভালো। এতে পুষ্টিগুণ বজায় থাকে বেশি।
কফের চিকিৎসায় কফ-কাশিতে আমরা সাধারণত এক্সপেক্টোরেন্ট জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকি। এক্সপেক্টোরেন্টের কাজ হল গলা থেকে কফ বের করে দেওয়া। কিন্তু এর একটা

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এসব ওষুধ খেলে ঘুম ঘুম ভাব হয়। তাই এর বিকল্প হিসেবে আপনি পুদিনাপাতার সাহায্য নিতে পারেন। গরম পানিতে সামান্য পরিমাণ পুদিনাপাতা সেদ্ধ করে পান করুন। পুদিনাপাতা এক্সপেক্টোরেন্টের কাজ করবে। বোনাস হিসেবে আপনি পেতে পারেন আরও একটি বড় ধরনের উপকার। আর তা হল, পুদিনাপাতা আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে। তাছাড়া পুদিনাপাতা পেটের গ্যাস কমায়, নিঃশ্বাসে দেয় সুগন্ধ।

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *