স্বাস্থ্য খাতে দুদকের মামলা-তদন্ত চলছে সমানতালে, বসে নেই দুর্নীতিবাজরাও

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিবাজ রাঘব-বোয়ালদের হাত অনেক লম্বা, ক্ষমতার দাপটও তাদের অনেক। রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা লুটপাটকারীরা তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থসম্পদসহ নিজেদের সুরক্ষায় আগাম নানা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে রেখেছেন। এ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতেও তারা দ্বিধা করেননি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আবজাল দম্পতির কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদের বিষয়টি ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়ে উঠেছে।

ধূর্ত আবজাল হোসেন নিজের ও তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের সুরক্ষায় প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে ফেলেছেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা ফরিদপুরে তিনটি আসনে মহাজোটের অন্তত পাঁচজন প্রার্থীকে নির্বাচনী খরচের জোগান দিয়েছেন। সরকারদলীয় এক প্রার্থীকে নগদ ১ কোটি টাকা এবং অন্য চার প্রার্থীকে ৫০ লাখ টাকা করে পৌঁছে দেন বলেও আবজালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তবে আবজাল নিজে সরকারদলীয় প্রভাবশালী এক প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন।

ফরিদপুরের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে আকর্ষণীয় তোরণ নির্মাণ করে তাতে নিজের ছবিও সংযোজন করেন আবজাল। তবে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভেবে চাঁদপুরের সরকারদলীয় এক প্রার্থীকে সর্বোচ্চ অর্থসহায়তার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। এতে কিছুটা টেনশনে ছিলেন আবজাল।

শুধু এমপি-মন্ত্রীর রক্ষাব্যূহ তৈরি করেই নিশ্চিন্ত থাকেননি আবজাল ও তার দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট সদস্যরা। যথারীতি তারা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থায়ও কল্যাণকামী সহায়ক গড়ে তোলেন। দুদকে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কারও সহায়তা থাকার কারণে অসংখ্য অভিযোগ সত্ত্বেও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন আবজাল হোসেন। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে আবজাল হোসেনকে তলব করে চিঠি দেওয়ার পরও তিনি কৌশলে সেই তদন্ত প্রক্রিয়া ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের যাবতীয় ঠিকাদারি ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে একাধিকবার মিডিয়ার শিরোনামও হয়েছেন আবজাল। ঠিকাদারের সহযোগী হিসেবে তার নামে মামলাও হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দফায় দফায় অভিযোগ জমা হলেও আবজালকে কখনই আইনি জালে আটকানো যায়নি। জানা যায়, আবজাল হোসেনকে দুদক তার বক্তব্য দিতে ডাকলেও তিনি হাজির হননি। তার পদবি ভুল থাকার অজুহাত দেখিয়ে দুদককে ম্যানেজ করে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সমর্থ হন তিনি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন অবসরপ্রাপ্ত সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ই আর খান আবজাল হোসেনের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ ও বেপরোয়া ঘুষ ও টেন্ডার বাণিজ্যের বিস্তারিত ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। সূত্রমতে, মাঝপথে আটকে গেছে সেই আবেদনও। ই আর খানের লিখিত ওই আবেদনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতের অ্যাডভোকেসি শাখার বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা খরচের বদলে আবজাল হোসেনসহ কর্মকর্তারা ভাউচার বানিয়ে লোপাট করেছেন বরাদ্দের বেশির ভাগ।

দুদক কর্মকর্তারাও বিপাকে! :

২০১৩-১৪ অর্থবছরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেরামত কাজটি কোনোরকম টেন্ডার/কোটেশন ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিতর্কিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর ভাই মোকছেদুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান ‘ব্লেয়ার এভিয়েশন’কে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ওই হাসপাতালের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. আবুবকর সিদ্দিক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. এম বি এম ইকবাল হোসেন ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমানের পারস্পরিক যোগসাজশ থাকার অভিযোগও ওঠে।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি মেরামতের নামে সাগর চুরির অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিয়ে সবাইকে অবাক করে দেন। হাসপাতালের সাড়ে ৭ হাজার টাকা দামের বেবি স্ক্যানার মেশিনের যন্ত্রপাতি মেরামতে ৪ লাখ ১১ হাজার ৯০০ ও ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় কেনা কার্ডিয়াক মনিটরের তিনটি যন্ত্রাংশ পরিবর্তনে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা খরচ দেখান। একইভাবে ৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় কেনা ফটোথেরাপি মেশিনের দুটি পার্টস বদলাতে ৬ লাখ ৪০০ টাকা খরচের বিল ভাউচার প্রস্তুত করেন। প্রতিটি যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম নতুন কিনতে যে টাকা লাগে টুকিটাকি মেরামতে তার চেয়ে বেশি খরচ দেখানো হয়।

বাস্তবে কোনোরকম মেরামত কাজ না করেই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করে নেয়। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের সহায়তায় প্রতারক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দ্রুততার সঙ্গেই অর্থ ছাড় করিয়ে নিতে সক্ষম হয়। কোনো কাজ না করেই যন্ত্রপাতি মেরামতের নামে সরকারের লাখ লাখ টাকা লুটে নেওয়ার ঘটনায় তৎপর হয়ে ওঠে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। তিনি নানা রকম প্রলোভন, চাপ সৃষ্টি, তদবির-লবিং উপেক্ষা করে লুটপাটে অভিযুক্তদের নামে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট দুদকের একজন পরিচালকের সহায়তা নিয়ে ওই সহকারী পরিচালককে নানাভাবে নাস্তানাবুদ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত পর্যন্ত হতে হয়।

পরে ওই পরিচালক মামলাটি অধিকতর তদন্তের নামে দিনাজপুরের দুদক উপপরিচালক বেনজীর আহমেদের ওপর তদন্তভার ন্যস্ত করেন। কিন্তু তিনিও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণাদি পাওয়ায় ফাইনাল রিপোর্ট প্রদানে অস্বীকার করেন। এতে ওই পরিচালক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার তদন্তভার পুনরায় স্থানান্তর করে দুদক সদর দফতরে তারই আস্থাভাজন এক উপপরিচালককে ন্যস্ত করেন। এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের লেনদেনের জেরে মামলাটির (দিনাজপুর থানার মামলা-৪৯ (০৮) ২০১৫, বিশেষ মামলা নং-১৪/২০১৭) ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০১২-১৩ অর্থবছরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দামের ডেন্টাল চেয়ার সাড়ে ৩৯ লাখ টাকায় সরবরাহ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার সরবরাহের মাধ্যমেই প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়েও দুদক তদন্ত চালায়। কিন্তু দুদকের সেই পরিচালক এ ক্ষেত্রেও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে দোষমুক্ত মর্মে প্রতিবেদন দাখিলের উদ্যোগ নিয়েছেন।

দুর্নীতিবাজরা গিলে খাচ্ছে ‘স্বাস্থ্য’ :

দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি ইউনিট দুর্নীতির মহিরুহে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, ওষুধ প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, নার্সিং অধিদফতর এমনকি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যায়ে দুর্নীতি লুটপাট শিকড় গেড়েছে। দুর্নীতির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদফতর। সাবেক ও নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিও কাজে আসছে না। বহাল তবিয়তে রয়েছেন তারা। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন উদ্যমে তৎপর হয়ে চক্রটি আখের গুছিয়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছে। বদলি, পদোন্নতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, হাসপাতালের সামগ্রী কেনাকাটা সবই এখন তাদের কব্জায়। আর এ চক্রের কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন সৎ-নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাসহ টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রকৃত ঠিকাদাররা।

তাদের শেল্টার দিচ্ছেন অধিদফতরের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতারা। কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সুবিধা আদায়, ডিও লেটার বাণিজ্য ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে এখনো বহাল রয়েছে। ডাক্তার-কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি আটকে দেওয়া, হয়রানি কোনোটাই থামেনি একেবারে। তবে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি দরপত্র প্রক্রিয়ায়। সর্বনিম্ন দরপত্র জমা দিয়েও ভালোমানের ঠিকাদারি কোম্পানি কিংবা ব্যক্তিরা কাজ পাচ্ছেন না। বড় অঙ্কের দরপত্র দিয়েও তা বাগিয়ে নিচ্ছেন অসাধু ও সেই সিন্ডেকেটের লোকজন। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন প্রায় প্রত্যেক বিভাগের কর্তকর্তারা। ভারী যন্ত্রপাতি, কার্টন, কেমিক্যাল, কাচ বস্তু, অন্যান্য মালামাল সরবরাহের নামে প্রতি বছর পিপিআরবহির্ভূত দরপত্র করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ সিন্ডিকেট।

অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটভুক্ত নির্দিষ্ট ১১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অভিন্ন লুটপাটের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানগুলো ১০ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকার ভারী যন্ত্রপাতি কেনার ওয়ার্ক অর্ডার নেয় কিন্তু কোনো যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে সমুদয় বিল তুলে নিয়ে যায়। প্রায় সব ইউনিটে পুরনো মেশিন দিয়ে চিকিৎসা চলতে দেখা যায়। কিন্তু প্রতি বছর ঠিকাদারদের কাছ থেকে কোটেশনে মালামাল কেনার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে এমআরআই মেশিন কেনার কথা বলা হয়। ওই মেশিন কিনতে ২০১৬ সালে ১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা ছাড়ও করা হয়। অথচ হাসপাতালে কোনো এমআরআই মেশিন সরবরাহ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেশিন সরবরাহ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। শুধু ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নয়, আরও কয়েকটি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহের নামে প্রায় ২০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, যন্ত্রপাতি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ২০ কোটি টাকার নিচে ছাড় করা বিল মন্ত্রীর নজরে আনা হয় না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঢাকা ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষ গত অর্থবছরে কোনো

এমআরআই মেশিন সরবরাহ না করার কথা নিশ্চিত করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ নাসিম দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম দূর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। এতে মহাজোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে গড়ে ওঠা যন্ত্রপাতি কেনাকাটার সিন্ডিকেট বেকায়দায় পড়ে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদার চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, গত কয়েক বছরে কোনো কোনো হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলেও তা বিকল হয়ে পড়েছে। কয়েকটি হাসপাতালে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মূল্য বাজারদরের তুলনায় দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরের কথা, উল্টো ওই প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন হাসপাতালের বিলও মঞ্জুর করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Please follow and like us:
20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *