তলপেটে মেদ : কী খাবেন আর কী খাবেন না

তলপেটে মেদ সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। অনেক বিপজ্জনক যে কোনও স্থানে মেদের চেয়ে। নিতম্বের উরুতে মেদ জমার চেয়েও বিপজ্জনক। তলপেটে মেদ জমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর সব স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন- হূদরোগ, স্ট্রোক ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস। বংশগতি বা জীন হয়ত মোটা হওয়ার সঙ্গে কিছুটা জড়িত, কোথায় মেদ জমবে এর সঙ্গেও। তবে সে সঙ্গে জীবন যাপন পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ হলে অবস্থা আরো শোচনীয় হয়।

কেবল প্রচুর মেদযুক্ত খাবার খেলে তলপেটে মেদ জমে তা নয়, মূল ব্যাপারটা হলো বাড়তি ক্যালোরি সেই ক্যালোরি যে উত্স থেকেই হোক। বেশি ক্যালোরি খেলে কোমরে, তলপেটে জমবে মেদ। তলপেটে মেদ জমার পেছনে একক কোনও কারণ নেই। বংশগতি বা জীন, বয়স, জীবন-যাপন সবারই থাকতে পারে ভূমিকা। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে তলপেটে মেদ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঘন চর্বি বাদ দিতে হবে, শর্করা কমাতে হবে, ফল ও সবজী খাওয়া বাড়াতে হবে। পরিমাণ কমাতে হবে আহারে প্রতি বেলার খাবারে।

বাড়তি ক্যালোরি তা মদ্য, হোক, কোমল পানীয় বা খাদ্যের বিশাল পরিমাণ থেকে হোক, সবই খারাপ। এগুলোই তলপেটে মেদ জমানোর পেছনে বৃহত্ কারণ। মদ থেকে আসা ক্যালোরি কোমর রেখাকে স্ফীত করে অবশ্য অবশ্যই। কারণ হলো- মদ্যপান করার সময়, এলকোহল দহনের কাজে, মেদ দহনের কাজে বড় ব্যস্ত থাকে, তাই তলপেটে মেদ জমে, একে বিয়ার বেলী বলে। আর একটি তত্ব যে সব হরমোন আমাদের তৃপ্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে এদের উপর প্রভাব বিস্তার করে ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। অনেক রকম চর্বি আছে এর মধ্যে সবচেয়ে বিপদ আসে খাদ্যের যে চর্বি থেকে তা হলো ট্রান্সফ্যাট।

ূওয়েক ফরেস্ট ইউনিভাসির্টির গবেষকরা দেগেছেন, আংশিক হাইড্রোজিনেটেড তেল থেকে তৈরি এই ট্রান্সফ্যাট তলপেটে মেদ জমাতে সাহায্য করে এবং শরীরের অন্য অংশ থেকে মদ এনে তলপেটে মেদ পুন:বিতরণ করে। কেক, পেস্ট্রি, বিদেশী বিস্কুট, মার্জারিন, ফাস্টফুড, কুকিস, ক্রাকারস, ফ্রেষ্ণ ফ্রাই, ভাজা খাবারে আছে ট্রান্সফ্যাট।

গ্রীন টি আর সে সঙ্গে ব্যায়াম, এতে ওজন কমে শরীরের। গবেষকরা বলেন, গ্রীনটিতে ক্যাটেচিন বলে যে পদার্থ শরীরকে চর্বি দহনে উদ্দীপ্ত করে এবং তলপেটে মেদ পোড়াতেও সাহায্য করে। আছে ব্লুবেরি, এটিও ফরপ্রসূ।

ফাস্টফুড খেলে তলপেটে মেদ হয়, সবাই জেনে গেছে এখন। কারণ ফাস্টফুডে আছে প্রচুর চর্বি, অনেক ক্যালোরি। মানুষ এসব খাবার খায়ও বেশি। অনেকের ধারণা, সাধারণ কোমল পানীয়ের বদলে ডায়েট কোমল পানীয় পান করলে তলপেটে মেদ কমানো যায়। কথাটি ঠিক নয়।

আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে, কোমলপানীয়, শরবত ও অন্যান্য মিষ্ট পানীয় হলো সে দেশে চিনি গ্রহণের এক নম্বর উত্স, অন্যান্য দেশেও তাই। বাড়তি চিনি মানে বাড়তি ক্যালোরি।অথচ ওজন কমাতে ও তলপেটে মেদ কমাতে বাড়তি ক্যালোরি কমানো অতি আবশ্যক। কোমল পানীয়তে পরিশোধিত চিনির বদলে হাই ফ্রঙ্কটোজ কর্ন সিরাপ দেওয়া হচ্ছে ইদানীং এবং মেদ স্থূলতার এই মহামারীর পেছনে এর ভূমিকা বেশ প্রধান বলে এখন বলা হচ্ছে।আর এর বদলে ডায়েট সোড়াও যে উপকারী এর পক্ষে তথ্য প্রমাণ জোরালো নেই।তাই ডায়েট সোডাও বিকল্প নয়।

কোমর চিকন করতে হলে খাদ্যে যোগ করতে হবে হোল গ্রেইন,গোটা শস্য। সাদা চালের বদলে লাল চাল,ঢেকিছাড়া চাল। ময়দার বদলে আটা,লাল আটা,ছাতু। প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিতে হবে। খোসা বাকলসহ তরকারী খেতে হবে।

আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত নিবন্ধে দেখা যায়,ক্যালোরি নিয়ন্ত্রিত খাদ্য, গোটা শস্য সম্বৃদ্ধ খেলে কোমরে থলথল মেদ পাতল হয় সহজেই।পরিশোধিত শস্যের বদলে তাই গোটা শস্য। স্প্যাগেটি, কর্নফ্লেক তৈরি হয় পরিশোধিত শস্য থেকে অবশ্য এদের হোলগ্রেন অপশনও আছে।তবে পপকর্ন হলো হোল গ্রেন খাবার যাতে আছে বেশ আঁশ।গোটাশস্য বা হোলগ্রেন ভালো এজন্য যে এতে আছে প্রচুর আঁশ ও এ শস্য পরিপাক হয় খুব ধীরে।এতে ক্ষুধার নিবৃত্তি হয় ভালো। রক্তের সুগার থাকে সুমিত এবং মেদ জমেনা শরীরে।

মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের তলপেটে মেদ জমার প্রবণতা বেশি। যৌন হরমোনের পার্থক্যের জন্যই এমন হয়। চল্লিশ বছরের আগে নারীদের মেদ জমার বেশী প্রবণতা হলো উরু ও নিতম্ব। চল্লিশের পর স্ত্রী হরমোন ইস্ট্রোজেন মান নেমে যাওয়ার পর চর্বি পুন:বিতরণ হয়ে জমে তলপেটে। তলপেটের মেদ ঝরানো তেমন যে কঠিন তা কিন্তু নয়। সুপরিকল্পিত ভাবে ওজন কমানো গেলে মেদ ঝরবে। তলপেটেও মেদ কমবে। প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর আহার ও নিয়মিত ব্যায়াম।

স্পট এক্সারসাইজ বা যথাস্থানে থেকে ব্যায়াম যেমন-উঠবস করা, ক্রাষ্ণেস, পেটের ব্যায়াম এগুলোতে পেশি সবল হয়, মেদ কমাতে সহায়ক। তবে নির্দিষ্টভাবে মেদ তলপেটে থেকে ঝরাবে তা নয়। তলপেটে মেদ বা যে কোনও স্থানে চর্বি কমানোর মোক্ষম উপায় হলো স্বাস্থ্যকর আহার ও নিয়মিত এরোবিক ব্যায়াম। এরোবিক ব্যায়াম, যেমন, দৌঁড়ানো, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, টেনিস খেলা বেশ উত্তম ব্যায়াম।

তলপেটে মেদ হলে বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা জড়িত যেমন- হূদনিষ্কিয়া, এথারোস্ক্লোরোসিস সহ অন্যান্য হূদ সমস্যা। ওস্টিওপরোসিস, ডিমেনশিয়া, আলঝাইমার রোগ, ডায়াবেটিস, কলোরেকটাল ক্যান্সার, মেটাবলিক সিনড্রোম, উচ্চ রক্তচাপও এর সঙ্গে সম্প্রর্কিত।

তাই তলপেটের মেদ ঝরানোর জন্য শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনা হলো-বেশিরভাগ বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ মতে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রিত খাদ্য, যা ফল, শাক সবজি, হোলগ্রেন, কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত দ্রব্য, বীনস, বাদাম, বীজ, মাছ, কচি মাংস, ডিম ও পোল্ট্রি সম্বৃদ্ধ এতে আছে সব পুষ্টি, আর কোমরে মেদ কমাতেও সহায়ক। সে সঙ্গে ৩০-৬০ মিনিট ব্যায়াম প্রতি সপ্তাহে প্রতিদিন।

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী

পরিচালক,  ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস,  বারডেম, ঢাকা

Please follow and like us:
20

4 thoughts on “তলপেটে মেদ : কী খাবেন আর কী খাবেন না

  • March 12, 2019 at 3:42 pm
    Permalink

    This is a great tip particularly to those fresh to the blogosphere.
    Simple but very accurate info… Many thanks for sharing this one.
    A must read article!

    Reply
  • March 12, 2019 at 7:01 pm
    Permalink

    I go to see everyday some web sites and information sites to read articles or reviews, except this website
    offers quality based content.

    Reply
  • March 12, 2019 at 10:46 pm
    Permalink

    Fantastic beat ! I wish to apprentice while you
    amend your web site, how could i subscribe for a
    blog web site? The account aided me a acceptable deal.
    I had been tiny bit familiar of this your broadcast provided vivid clear concept

    Reply
  • March 13, 2019 at 8:33 am
    Permalink

    You have made some really good points there. I checked on the net to learn more about the issue and found
    most people will go along with your views on this site.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *